দক্ষিণবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: খসড়া তালিকায় নাম উঠে গিয়েছে দেখেই নিশ্চিন্ত হওয়ার জো নেই। তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এখনও। বলা ভাল, এখন থেকেই কমিশনের আসল ঝাড়াইবাছাই পর্ব শুরু হচ্ছে। কারণ, এনুমারেশন ফর্ম যাঁরা পূরণ করেছেন, তাঁদের প্রায় সকলেরই নাম তুলে দেওয়া হয়েছে খসড়া তালিকায়।
গত ২৭ অক্টোবর রাজ্যে এসআইআরের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছিল কমিশন। সে দিন পর্যন্ত রাজ্যে মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। কমিশন সূত্রের দাবি, এনুমারেশন ফর্মে শুধুমাত্র সই থাকলেই খসড়া তালিকায় নাম তুলে দেওয়া হয়েছে। ওই সূত্র জানাচ্ছে, মঙ্গলবার প্রকাশিত খসড়া তালিকায় নাম রয়েছে ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩১ জনের। তবে এদের সকলেই রাজ্যের বৈধ ভোটার কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নয় কমিশন।
এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি (নির্দিষ্ট ভাবে ১ কোটি ৯৮ লক্ষ ৫ হাজার ১৮৪ জন) রাজ্যবাসীকে চিহ্নিত করেছে কমিশন। তাঁরা রাজ্যের বৈধ ভোটার কি না, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারছে না কমিশন। এই ভোটারদের তথ্যে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুসারে তাঁদের কমিশনের শুনানিতে ডেকে পাঠানো হবে। তথ্য যাচাই করা হবে। শুনানিতে সন্তুষ্ট না-হলে বাদ যেতে পারে নাম।
কাদের শুনানিতে ডাকা হবে, তা স্থির করার জন্যও নির্দিষ্ট মাপকাঠি রয়েছে কমিশনের। খসড়া তালিকার মধ্যে ৩০ লক্ষেরও বেশি ভোটারকে অবশ্যই কমিশনের শুনানির মুখোমুখি হতে হবে। বাকি দেড় কোটির বেশি ভোটারের মধ্যে প্রয়োজন অনুসারে কাউকে কাউকে ডাকা হবে শুনানিতে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর জন্য বাড়ি বাড়ি এনুমারেশন ফর্ম বিলি করেছিল কমিশন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার (রাজ্যে এর আগে শেষ এসআইআর হয়েছিল ওই বছরে) সঙ্গে কী যোগসূত্র রয়েছে, তা ভোটারদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয় ওই ফর্মে। জানা যাচ্ছে, রাজ্যের ৩০ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৭৩ জন ভোটার ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে কোনও যোগসূত্র দেখাতে পারেননি। অর্থাৎ, ২০০২ সালের সঙ্গে কোনও ‘ম্যাপিং’ করা যায়নি তাঁদের তথ্য। এদের সকলের নামই কমিশনের প্রকাশিত খসড়া তালিকায় রয়েছে। তবে তাঁরা রাজ্যের বৈধ ভোটার কি না, তা নিশ্চিত নয় কমিশন। তাই তাঁদের সকলকেই ডেকে পাঠানো হবে শুনানির জন্য।
‘নো ম্যাপিং’ শ্রেণিভুক্ত ভোটারদের পাশাপাশি আরও দেড় কোটির বেশি ভোটারকে নিয়ে সন্দেহ রয়েছে কমিশনের। এই শ্রেণিতে রয়েছেন মোট ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯১১ ভোটার। তাঁদের নামও খসড়া তালিকায় রয়েছে। তবে তাঁদের এনুমারেশন ফর্মে পাওয়া তথ্য সন্দেহজনক ঠেকছে কমিশনের। সেই কারণে তাঁদেরও তথ্য যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এই ১ কোটি ৬৭ লক্ষের মধ্যে সকলকেই যে শুনানিতে ডাকা হবে, এমন নয়। এঁদের বিভিন্ন জনের বিভিন্ন ধরনের তথ্যে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে বলে মনে করছে কমিশন। যেমন, কোনও ক্ষেত্রে ভোটারের চেয়ে তাঁর বাবা বা মা মাত্র ১৫ বছরের বড়। কোথাও আবার ঠাকুরদা বা ঠাকুরমার চেয়ে ভোটার ৪০ বছরেরও ছোট নয়। মাঝে এক প্রজন্ম ব্যবধানের পরেও বয়সের ফারাক ৪০ বছরের কম। কোথাও ভোটারের সঙ্গে তাঁর বাবা-মায়ের বয়সের ফারাক ৫০ বছরেরও বেশি। আবার কোথাও ছয়ের বেশি ভোটারের বাবার নাম একই রয়েছে। এঁদের সকলের বাড়ি বাড়ি যাবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএলও-রা। এনুমারেশন ফর্মে যে ভোটারের কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবেও তিনি একই ব্যক্তি কি না— তা যাচাই করে দেখবেন বিএলও-রা। যাঁদের তথ্য যাচাই করার সময়ে বিএলও-রা সন্তুষ্ট হবেন না, তাঁদের ডেকে পাঠানো হবে শুনানির জন্য।
খসড়া তালিকা প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের কাজ। শুনানি পর্বের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। যাঁদের শুনানিতে ডাক পড়বে, আগামী কয়েক দিন তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নোটিস ধরাবেন বিএলও-রা। কবে কোথায় শুনানির জন্য ‘হাজিরা’ দিতে হবে, তা-ও জানিয়ে দেওয়া হবে। সেই মতো নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে যেতে হবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে পৌঁছে যেতে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে। তবে ওই শুনানির দায়িত্বে আর বিএলও-রা থাকবেন না। শুনানি করবেন কমিশন নিযুক্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)-এরা। এর জন্য প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ১০ জন করে এইআরও নিয়োগ করেছে কমিশন। সেখানে সংশ্লিষ্ট ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের সময়েও যদি কমিশন নিযুক্ত আধিকারিক সন্তুষ্ট না হন, তবে তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে নাম।



















