দক্ষিণবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আজকের সময়ে যখন মূলধারার সংবাদমাধ্যম ধীরে ধীরে ক্ষমতাকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে, তখন কিছু সাংবাদিক আছেন যাঁরা এখনো মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলেন। সেই ব্যতিক্রমী সাংবাদিকদের অন্যতম হলেন সাকিরুল ইসলাম। তিনি এমন একজন সাংবাদিক, যিনি স্টুডিওতে বসে সংবাদ তৈরি করেন না; বরং গ্রামগঞ্জে ঘুরে, সাধারণ মানুষের জীবনের ভেতর ঢুকে বাস্তব সত্যকে তুলে ধরেন।
সাকিরুল ইসলামের সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো প্রান্তিক মানুষের প্রতি তাঁর গভীর দায়বদ্ধতা। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সমাজের মানুষ—যাদের কণ্ঠস্বর প্রথম সারির মিডিয়ায় প্রায়শই উপেক্ষিত থাকে—তাদের জীবন, সমস্যা, বঞ্চনা ও সংগ্রামের কথা তিনি ধারাবাহিকভাবে সামনে আনেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রেশন, জমি, কাজের অধিকার, প্রশাসনিক অবহেলা কিংবা সামাজিক অন্যায়—এই সব ইস্যুতে তিনি মাঠে নেমে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। যে খবরগুলো কর্পোরেট মিডিয়া তুলে ধরতে চায় না বা ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যায়, সাকিরুল ইসলাম সেগুলোকেই গুরুত্ব দিয়ে মানুষের সামনে নিয়ে আসেন।
গ্রামবাংলার অলিগলি, প্রত্যন্ত এলাকার রাস্তা, সাধারণ মানুষের বাড়িঘর—এইসব জায়গাই তাঁর কাজের আসল ক্ষেত্র। মানুষের সঙ্গে কথা বলা, তাদের অভিজ্ঞতা শোনা এবং সেই অভিজ্ঞতাকে সংবাদে রূপ দেওয়াই তাঁর সাংবাদিকতার মূল দর্শন। তাই তাঁর প্রতিবেদনগুলো শুধু খবর নয়, বরং সময়ের দলিল হয়ে ওঠে।
বর্তমানে সাকিরুল ইসলাম ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্ম G Eye-এর ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। G Eye তাঁর নেতৃত্বে একটি বিকল্প মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, যেখানে সাহসের সঙ্গে প্রশ্ন তোলা হয় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া হয়। এই চ্যানেলের মাধ্যমে তিনি এমন বহু ইস্যু সামনে এনেছেন, যা মূলধারার সংবাদমাধ্যমে উপেক্ষিত থেকেছে।
G Eye-এর আগে তিনি NBTV-তে কাজ করেছেন এবং পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদপত্র ও মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে রিপোর্টিং ও সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এই দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি শিখেছেন যে সাংবাদিকতা কেবল পেশা নয়, এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি চাপ, হুমকি বা প্রতিকূলতার মুখেও সত্য প্রকাশে আপস করেননি।
সাকিরুল ইসলাম এমন একজন সাংবাদিক যিনি প্রশ্ন করতে ভয় পান না, ক্ষমতার সামনে মাথা নত করেন না এবং সাংবাদিকতাকে কখনোই ব্যবসা হিসেবে দেখেন না। তাঁর কাজের মধ্যে রয়েছে মানবিকতা, সততা ও সাহস—যা আজকের সময়ে ক্রমশ দুর্লভ হয়ে উঠছে। ডিজিটাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে তিনি গ্রামবাংলার সত্যকে শহরের পর্দায় পৌঁছে দিয়েছেন এবং প্রমাণ করেছেন যে বড় মিডিয়া হাউস ছাড়াও সৎ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সম্ভব।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সাকিরুল ইসলাম শুধু একজন সাংবাদিক নন—তিনি প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর, গ্রামবাংলার বাস্তবতার প্রতিনিধিত্বকারী এক নির্ভীক মুখ। এমন সাংবাদিকরাই সমাজকে প্রশ্ন করতে শেখান এবং গণতন্ত্রকে জীবিত রাখেন।




















